নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির চাল আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে জরিমানাসহ অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি বিধি মোতাবেক ২৪৭ জন হতদরিদ্র নারীকে চালের দ্বিগুণ বাজারমূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত মার্চ মাসে সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন কার্ডধারী নারীর জন্য বরাদ্দকৃত চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের মাঝে তা বিতরণ না করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
ভিডব্লিউবি কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০১১ এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সরকারি মালামাল আত্মসাৎ করলে তার বাজারমূল্যের দ্বিগুণ অর্থ আদায়ের বিধান রয়েছে। সেই মোতাবেক অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জরিমানাসহ অর্থ আদায় করা হয়।
শনিবার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাতের উপস্থিতিতে ওই অর্থ বিতরণ করা হয়। জরিমানাসহ প্রত্যেক সুবিধাভোগী নারী ৩ হাজার ৪২৫ টাকা করে হাতে পেয়েছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সরকারি বিধি মোতাবেক দ্বিগুণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি বিধি মোতাবেক সুবিধাভোগীদের দ্বিগুণ অর্থ ও তাদের জমাকৃত সঞ্চয় ফেরত দিয়েছেন।
অর্থ বিতরণকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুমি খাতুন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পাওনা টাকা হাতে পেয়ে সুবিধাভোগী নারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

