ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর / ছবি - এই বাংলা

বরিশাল ব্যুরো :

 

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, প্রকল্প বণ্টনে পক্ষপাতিত্ব এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে দপ্তরটির নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টন ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক আসবাবপত্র প্রকল্পের আওতায় ৬০টি কাজের মধ্যে অন্তত ২১টি কাজ একই প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কনস্ট্রাকশন-কে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের অধিকাংশই এখনো সম্পন্ন হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দের আঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকাল নিরঞ্জন বৈরাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রত্নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টরকি বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়; গৌরনদী উপজেলার পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়; বানারীপাড়া উপজেলার পশ্চিম ইলুহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়; উজিরপুর উপজেলার কুড়ালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়; মুলাদী উপজেলার বানীমদ্দন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরপদ্মা আফসারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়; মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গৌরিপুর কাদিরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়; বরিশাল সদর উপজেলার হিজলতলা মৌলভীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বুখাইনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের বিপরীতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। পরে ওই কাজগুলো আবার বেশি দামে অন্য ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলাম ও আশিকুর রহমান মিলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বর্তমানে ৭-৮ জন ঠিকাদারের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর ছত্রছায়ায় থেকে বড় বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকায় সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়মিত ইলিশ মাছ পাঠাতেন বলেও দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, “শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সপ্তাহাধিক আগে এমন বক্তব্য দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here