‘ব্রিটিশ মাসুদ’কে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির একের পর এক অভিযোগ

বিটিসিএলে ‘ভোল পাল্টানোর মহোৎসব’: সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের দাপটে প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন

0
173
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি আওয়ামী লীগের ‘ব্রিটিশ মাসুদ’ এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় / ছবি - এই বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এ শুরু হয়েছে সুবিধাবাদীদের ভোল পাল্টানোর প্রতিযোগিতা। অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা-কর্মচারী এখন খোলস বদলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।

এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ও বিটিসিএল কর্মচারী লীগের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ‘ব্রিটিশ মাসুদ’-এর নাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় বিটিসিএলে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন ব্রিটিশ মাসুদ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েও বর্তমানে তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিটিসিএল কর্মচারী ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি বর্তমানে মগবাজার টিএনটি কলোনি কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি পদ দখল করে বিতর্কিত আহ্বায়ক ভিপি মো. হানিফের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কর্মচারী ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ব্রিটিশ মাসুদ ও তার সিন্ডিকেট উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে মাসোয়ারাভিত্তিক যোগসাজশে বিটিসিএল অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারটি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আয় হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও উঠে এসেছে সরকারি কোয়ার্টার ও ঘর কেনাবেচার ভয়াবহ চিত্র। এর মধ্যে—

  • অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সৈয়দ আহম্মদের ঘর অবৈধভাবে ইমাম মো. আতিকের কাছে হস্তান্তর,
  • মোয়াজ্জিন লোকমান হোসেনের ঘর বহিরাগতদের কাছে বিক্রি
  • গাড়িচালক আওলাদ হোসেনের কোয়ার্টার ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির কাছে বরাদ্দ ও বিক্রি

এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ভিপি মো. হানিফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিটিসিএল কর্মচারী সংগঠন (রেজিঃ নং বি-১৯০০)-এর স্বঘোষিত আহ্বায়ক হয়েছেন। তবে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শ্রম অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ৩১৭ (৪) (ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী এই আহ্বায়ক কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

অভিযোগকারীদের মতে, আইনি বৈধতা না থাকলেও কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট বিটিসিএল এলাকায় ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বিটিসিএলের সাধারণ কর্মচারীরা এই ‘হাইব্রিড’ ও ‘সুবিধাবাদী’ চক্রের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিটিসিএল অডিটোরিয়ামের দায়িত্বে থাকা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বিটিসিএলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) রতন কুমার হালদার এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here