সংস্কার ও জবাবদিহীতামূলক রাষ্ট্র গঠনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান রিজওয়ানা হাসানের

0
188
জবাবদিহীতামূলক প্রশাসন চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে:উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান / ছবি - এই বাংলা

নীলফামারী প্রতিনিধি :

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “যদি পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন, যদি সংস্কারের পক্ষে থাকেন, যদি সত্যিকার অর্থে জবাবদিহীতামূলক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব চান—তাহলে গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দিতে হবে।”

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার, ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতেই গণভোট। আসন্ন গণভোট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং দেশের টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে উত্তর একটাই—হ্যাঁ।”

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি গুম কমিশন করেছি। সেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। দেশের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা ১ হাজার ৯০০ জন নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। কেউ আর ফিরে আসেননি, কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, আবার কারো পরিবার মৃতদেহ পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে জনগণকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে শুধুমাত্র ভোটাধিকার হরণ করার জন্য।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্ষমতার প্রতি তাদের লোভ এতটাই ছিল যে জনগণের ভোট দেওয়ারই দরকার ছিল না। তারা মনে করত—আমরাই ক্ষমতায় আছি, আমরাই থাকব। এজন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। রাতের ভোট নিয়ে কেউ যেন কথা বলতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই অপশাসনের অবসান ঘটাতেই সংস্কার প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি চাইলে আমাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং গোলাপি ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।”

ভোট নিয়ে সৃষ্টি হওয়া শঙ্কার বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “একটি ভীতি তৈরি করা হয়েছে—ভোট হবে না। কেন হবে না? ভোটের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হবে, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হবে। সরকার সব ধরনের বাধা মোকাবিলায় প্রস্তুত। যত বাধাই আসুক, ভোট হবে এবং জনগণ ভোট দেবে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রিট হওয়া নতুন কিছু নয়। যেকোনো নির্বাচনে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে রিট করে। রিট মানেই নির্বাচন বন্ধ—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।”

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন— নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. লুৎফুল কবির সরকার, এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here