ডিজাইন ইন বাংলাদেশ উইক ২০২৬-এর মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে বাংলাদেশের নির্বাচিত ১০০ ডিজাইনারের একজন হিসেবে নিজের সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের বিফটি-৩০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তৃষা শ্যাম। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে তিনি প্রদর্শন করেছেন তাঁর বিশেষ কালেকশন ‘ট্র্যাশ টু লাক্সারিয়াস’।
সাসটেইনেবল ফ্যাশন কোর্সের অংশ হিসেবে তৈরি করা এ পোশাকের পেছনে রয়েছে স্মৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং সৃজনশীলতার ব্যতিক্রমী সমন্বয়। ২০২৪ সালের ভয়াবহ ফেনী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুরোনো পোশাক ও অলংকার পুনর্ব্যবহার করে পোশাকটি তৈরি করেছেন তৃষা।
তৃষার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বন্যায় তাঁর নিজ শহর ফেনীতে তাঁদের পরিবারের বহু বছরের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন পোশাক ও অলংকার নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল তাঁর মায়ের শাড়ি, পোশাক, ওড়না ও গয়না, পাশাপাশি দিদির বিয়েতে পরা প্রিয় লেহেঙ্গাটিও। স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এসব জিনিস ফেলে দিতে গিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—এসব স্মৃতি কি সত্যিই এভাবেই হারিয়ে যাবে?
সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ‘ট্র্যাশ টু লাক্সারিয়াস’-এর ধারণা।
পোশাকটি তৈরিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শাড়ি, ওড়না, পোশাক ও লেহেঙ্গার পাশাপাশি পুরোনো লেস, সিকুইন, স্টোন এবং বিভিন্ন ধরনের অলংকার-উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। পুরোনো কাপড়গুলোকে স্তর বিন্যাস, ড্রেপিং, কাটিং ও কাপড়ের গঠন পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন আকৃতি দেওয়া হয়। পোশাকটির নান্দনিকতা বাড়াতে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলের ঢাকনাও ব্যবহার করা হয়েছে সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে।
তৃষার এই উদ্যোগে শুধু কাপড়ের বর্জ্য নয়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যকেও ফ্যাশনের উপকরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পুরোনো ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হাতে আঁকা নকশা যুক্ত করে পোশাকটিতে দেশীয় নান্দনিকতার ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে।
তৃষার ভাষায়, ‘ট্র্যাশ টু লাক্সারিয়াস’ শুধু আবর্জনা থেকে বিলাসবহুল কিছু তৈরির গল্প নয়; এটি হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতি ও পরিত্যক্ত উপকরণকে নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনার গল্প।
এই কালেকশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তৃষা শুধু পোশাকটির নকশা করেননি; নিজের তৈরি পোশাক পরেই র্যাম্পে হেঁটে সেটি দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। একজন ডিজাইনার হিসেবে নিজের সৃষ্টিকে নিজেই ধারণ করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি তাঁর নান্দনিক ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
তৃষার এই অর্জনে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। টেকসই ফ্যাশন, পুনর্ব্যবহার এবং স্মৃতিকে সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ডিজাইনারদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
এই বাংলা/এমএস