বাগেরহাট প্রতিনিধি :
সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দস্যু চক্র ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের জিম্মিতে থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেন আল আমিন হোসেন, তৈবুর রহমান ও মনিরুজ্জামান ওরফে মামুন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জিম্মিতে থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের দাবি, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের চাপে কোণঠাসা হয়ে তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তারা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরার নৌকা ও বনজীবীদের লক্ষ্য করে অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণকারী তিনজনকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন বলেন, সুন্দরবনে দস্যু চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা এখনও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বনজীবীরা মনে করছেন, দস্যুদের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার এবং জেলে-বাওয়ালীদের নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

