বাগেরহাট প্রতিনিধি :
শুষ্ক মৌসুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রোধে সুন্দরবনে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বনবিভাগ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে রাখা, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, ফায়ার লাইন তৈরি এবং সেচপাম্প ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের কাজ জোরদার করা হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুকনো পাতা ও জ্বালানি থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে বনের বিভিন্ন স্থানের মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগুন লাগলে দ্রুত নেভানোর সুবিধার্থে বনসংলগ্ন নদী ও খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও নদী ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজন এলাকায় বনকর্মীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বনসংলগ্ন এলাকায় লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেট, ম্যাচ-লাইটার বা কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।
বনবিভাগ জানায়, সুন্দরবনের নাংলী, চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জসহ বিভিন্ন স্টেশনের আওতাধীন লোকালয় ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জিউধরা, চিলা, জয়মুনি ও কপিলমুনিসহ বনের বিভিন্ন প্রবেশপথে বনকর্মীরা তল্লাশি জোরদার করেছেন, যাতে কেউ ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে দাহ্য বস্তু বনের ভেতরে নিতে না পারে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বনবিভাগ আরও জানিয়েছে, দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে বা বনের ভেতরে আগুন জ্বালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ড্রোন ব্যবহার করে বনের গভীর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আগাম সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে ফায়ার লাইন তৈরি করা হচ্ছে। নদীর পানি ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস ও বনকর্মীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি রাখছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এসব বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, অসতর্কভাবে ফেলে দেওয়া বিড়ি-সিগারেটের অবশিষ্টাংশ কিংবা মৌয়ালদের ব্যবহৃত মশাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তাই এবার আগাম সতর্কতা জোরদার করেছে বনবিভাগ।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

