সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ দুই শান্তিরক্ষীর মরদেহ কুড়িগ্রামে দাফন

0
194
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্য নিজ বাড়িতে শায়িত / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর মধ্যে দুজনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে আনা হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এর আগে রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে শান্তিরক্ষী মমিনুল ইসলাম (৩৮) এবং শান্ত মন্ডলের (২৬) লাশ কুড়িগ্রাম পৌঁছায়। লাশবাহী হেলিকপ্টার উলিপুর উপজেলার হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে সেখান থেকে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শান্ত মন্ডলের বাড়ি রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাটমাধাই ডারারপাড় গ্রামে। তার বাবা সাবেক সেনাসদস্য (মৃত) নুর ইসলাম মন্ডল এবং মা সাহেরা বেগম। আর মমিনুল ইসলামের বাড়ি উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের পারুলেরপাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ১৩ ডিসেম্বর বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক ড্রোন হামলায় ছয় জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আট জন শান্তিরক্ষী আহত হন।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পান্ডুলের পারুল গ্রামে মমিনুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার বাবা, ছোট ভাই, আত্মীয় ও গ্রামবাসী ছড়াও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী জানাজায় অংশ নেন। তার আগে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দল শান্তিরক্ষীকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই শান্তিরক্ষী বাবা-মা ও ভাই ছাড়াও স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ের বয়স চার বছর। মাত্র ৩৩ দিন আগে মমিনুল সুদানে গিয়েছিলেন।

মমিনুলের বাবা আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ ছিল। এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসে। আল্লাহ ভালোবাসেন বলেই হয়তো শহীদি মৃত্যু হয়েছে। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মমিনুল আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা অসহায় হয়ে পড়লাম। সরকার যদি আমার ছোট ছেলের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে পরিবারটা ভালোভাবে চলতে পারবে।’

অপরদিকে, শান্ত মন্ডলের জানাজা বিকাল সাড়ে ৪টায় নিজ গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। বড় ভাই সেনাসদস্য সোহাগ মন্ডলসহ নিকটাত্মীয় ও এলাকাবাসী এতে অংশ নেন। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দল গার্ড অব অনার দেয়। পরে নিজ বাড়ির আঙিনায় বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন।

শান্তর বড় ভাই সোহাগ মন্ডল জানান, শান্ত ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। তিনি সর্বশেষ বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে সৈনিক পদে ছিলেন। গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষী মিশনে সুদানে যান। গত এক বছর আগে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here