ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর পোনাবালিয়া অংশে পুনরায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র নদী থেকে বালু উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে এবং আগামী ৯ জুন রাত থেকে ড্রেজার বসিয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য সময় ও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী কিস্তাকাঠি, দিয়াকুল, দেউরি, সাচিলাপুর ও দক্ষিণ কিস্তাকাঠি এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তারা নদীভাঙনের শিকার। সরকার নদীশাসন ও ভাঙনরোধে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও অনেক এলাকায় এখনও ভাঙনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন করে বালু উত্তোলন শুরু হলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক অবকাঠামো আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। ফলে নতুন করে একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এদিকে, নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, একটি মহল প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌ-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি, অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সুগন্ধা নদী ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

