সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)’র এক ড্রাইভারকে ঘিরে দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কাজি মো. বিল্লাল হোসেন নিজের পদে বহাল থাকতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্ত এড়াতে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এমনকি অভিযোগটি যাতে তদন্তে না যায়, সে লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়েও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বিল্লাল হোসেন নানা অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় ২০ বছর ধরে টিটিসিতে কর্মরত থাকা এই ড্রাইভার ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। দক্ষিণ সুরমা এলাকায় তার একটি বাড়ি, একাধিক সিএনজি ও বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে—প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তা প্রভাব খাটিয়ে সামাল দিয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রীও কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত শুরু হলেই তা উচ্চপর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাজি মো. বিল্লাল হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

