সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আমলনামা: বিরোধী দমন, ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার নেপথ্য

সাজিদ বিন বশির :

সূচনা পর্ব

পর্ব-১

বাংলাদেশের প্রশাসনিক, আইনি ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষ বলয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নানা সময়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাবেক জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার এবং পরবর্তীতে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির আসনে অধিষ্ঠিত মো. সাহাবুদ্দিন (যিনি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামেই সমধিক পরিচিত)—তাঁর সম্পূর্ণ কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে এমন এক রূপরেখা ফুটে ওঠে, যা সমকালীন রাষ্ট্র পরিচালনায় গভীর ছায়া ফেলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার রাজনৈতিক ব্যবহার, বিরোধী দল দমন, করপোরেট স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ে অনুঘটকের ভূমিকা পালনের মতো গুরুতর অভিযোগের নজির আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় গণমাধ্যম ও বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে স্থান পেয়েছে।

আইনি ও সাংবিধানিক লঙ্ঘন: রাষ্ট্রপতির পদে বিতর্কিত মনোনয়ন

২০২৩ সালের শুরুর দিকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রথম বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একক পছন্দে ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বঙ্গভবনের শীর্ষ পদে আসীন হন তিনি। তবে এই মনোনয়নের আইনি বৈধতা নিয়ে সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজ (Netra News) এবং দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বড় ধরনের তথ্য উন্মোচন করেন।

  • দুদক আইন ২০০৪-এর ৯ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন: ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে যে, কমিশনের কোনো কমিশনার অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো ‘লাভজনক পদে’ (Office of Profit) নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদটি একটি লাভজনক পদ। ফলে দুদকের সাবেক কমিশনার হিসেবে তাঁর রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হওয়া ছিল দেশীয় আইনের বিধিনিষেধের সরাসরি লঙ্ঘন।

  • নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা: আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আইনজীবীদের আপত্তি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং বঙ্গভবনে একজন বিশ্বস্ত ও অনুগত ব্যক্তিকে বসানোর স্বার্থেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক ছাতা (২০১১–২০১৬)

মো. সাহাবুদ্দিনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অধ্যায় শুরু হয় ২০১১ সালে, যখন তিনি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রয়টার্স, আল জাজিরা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, ১/১১-এর রাজনৈতিক ও বিচারিক প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে কীভাবে বিরোধী দল দমনে এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলকে সুরক্ষা দিতে কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা প্রক্রিয়ায় ভূমিকা

দুদক কমিশনার পদে থাকাকালীন ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত ‘জিয়া চ্যেরিটেবল ট্রাস্ট’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে বিশেষ গতি আনা হয়। বিএনপি নেতৃত্বের অভিযোগ অনুযায়ী, বেগম জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে তৎকালীন কমিশন পর্ষদের নীতি-নির্ধারক হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নেপথ্য ভূমিকা পালন করেন।

একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার (Money Laundering) ও অন্যান্য দুর্নীতির মামলায় আইনি ঘেরাটোপ তৈরি করা, দ্রুত চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে চাপ তৈরির কৌশল পরিচালনায় তৎকালীন দুদকের উইং অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। এর বিপরীতে ১/১১-এর সময়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শত শত মামলা একের পর এক প্রত্যাহার বা স্থগিত করা হলেও বিরোধী দলের মামলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজার দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্যের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়।

পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারী ও বিশ্বব্যাংক বিতর্ক

পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্পে কানাডীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘এসএনসি-লাভালিন’ (SNC-Lavalin)-কে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের ১.২ বিলিয়ন (১২০ কোটি) মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি বাতিল করে। আন্তর্জাতিক তদারকি প্যানেল ও বিশ্বব্যাংকের তীব্র চাপ সত্ত্বেও তৎকালীন দুদক কমিশনার হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশন পর্ষদ অনুসন্ধানের পর তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ অভিযুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তা ও আমলাকে “সুনির্দিষ্ট আলামত না পাওয়ার” দোহাই দিয়ে দায়মুক্তি (ক্লিনচিট) দেয়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বব্যাংকের সাথে সংঘাতের মুখমুখী দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে বড় ধরনের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির সংকট থেকে রক্ষা করতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাজনৈতিক ‘রক্ষাকবচ’ বা ছাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে এই বিশ্বস্ততার প্রতিদান হিসেবেই তাঁর রাজনৈতিক ও করপোরেট ক্যারিয়ারের পথ সুগম হয় বলে সমালোচকরা মনে করেন।

করপোরেট স্বার্থ ও ইসলামী ব্যাংক ধসে ভূমিকা (২০১৬–২০২৩)

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার পদে দায়িত্ব পালনের পর যেকোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিরতি (Cooling-off Period) বজায় রাখা নৈতিক দায়িত্ব হলেও, মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যতিক্রম। অবসরের পরপরই দেশের আর্থিক খাতের একটি বিতর্কিত গ্রুপের হয়ে তাঁর আবির্ভাব নজিরবিহীন স্বার্থের দ্বন্দ্ব (Conflict of Interest) তৈরি করে।

এস আলম গ্রুপে যোগদান ও ইসলামী ব্যাংক দখল (Hostile Takeover)

দুদক ছাড়ার পর কোনো বিরতি না নিয়ে তিনি দেশের আর্থিক খাতের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী ‘এস আলম গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা (Senior Adviser) পদে যোগ দেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর সহায়তায় এবং রাজনৈতিক সমর্থনে যখন ঐতিহ্যবাহী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক দখল করা হয়, তখন এতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বড় ভূমিকা দেখা যায়।

এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের একক মালিকানা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় দুই ডজনেরও বেশি কাগুজে কোম্পানি (Shell Companies) ব্যবহার করে শেয়ার কেনে। এর মধ্যে ‘জেডএমসি বিল্ডার্স’ নামক একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসানো হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান বানানো হয়।

৮৮-৯০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ও লুটপাট

২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহাল ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ৬-৭ বছরে ইসলামী ব্যাংক থেকে জামানতহীন ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮৮ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়।

একক গ্রাহক ঋণসীমা লঙ্ঘন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মাবলী তোয়াক্কা না করে এস আলম গ্রুপকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ের নীতিনির্ধারণী অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সরাসরি ভূমিকা রাখেন। একজন প্রাক্তন দুদক কমিশনারের পরিচালনা পর্ষদে উপস্থিতি এস আলম গ্রুপকে আইনি ও প্রশাসনিক সুরক্ষা দিতে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা মতামত ব্যক্ত করেন।

বঙ্গভবনের সংকট ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর

২০২৩ সালের এপ্রিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বঙ্গভবনের ভেতরে তাঁর উপস্থিতি দেশকে অভূতপূর্ব সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করায়।

শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ও মিথ্যাচার

২০২৪ সালের অক্টোবরে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেন যে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ বা কাগজ তাঁর কাছে নেই।” অথচ ৫ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র জনরোষের জন্ম দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তোলে। ছাত্র-জনতা বঙ্গভবন ঘেরাও করে তাঁকে দ্রুত অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিশ্ব গণমাধ্যমে আন্তর্জাতিক কাভারেজ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সাংবিধানিক সংকট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসে। বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters), আল জাজিরা (Al Jazeera) এবং ডয়েচে ভেলে (DW)-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে রাজনৈতিক দোলাচল তৈরি করছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সাথে তাঁর বিরোধের নানা চিত্র বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।

মো. সাহাবুদ্দিন (সাহাবুদ্দিন চুপ্পু)-র সমগ্র ক্যারিয়ার পর্যালোচনা করলে প্রশাসনিক, বিচারিক ও রাজনৈতিক পদের চরম অসদ্ব্যবহারের চিত্র ভেসে ওঠে। আইনের তোয়াক্কা না করে লাভজনক পদে আসীন হওয়া, দুদককে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা, দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের তহবিল খালি করার নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এবং সর্বশেষ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অবস্থান করে অসত্য বক্তব্য প্রদান—এসবই তাঁর আমলনামার মূল উপাদানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল একটি ব্যক্তির গল্প নয়, বরং কীভাবে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, এটি তারই এক ঐতিহাসিক ও আলোচিত দলিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here