নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তি এখনো কৃষিনির্ভর। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ জীবিকা টিকিয়ে রাখা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কৃষির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। ধান, সবজি ও আলু উৎপাদনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সুষম, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহারের বিকল্প নেই।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশ ও ফসফেটজাত সার উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অপরিহার্য। পটাশ ফসলের রোগ ও প্রতিকূলতা সহনশীলতা বাড়ায় এবং গুণগত মান উন্নত করে। অন্যদিকে ফসফরাস মূল গঠন, প্রাথমিক বৃদ্ধি ও শস্য গঠনে সহায়ক। দেশের ধানভিত্তিক নিবিড় চাষ ব্যবস্থায় ডিএপি (DAP) ও টিএসপি (TSP) সার শুরুতেই প্রয়োগ করা হয়, যা ফলন ও দীর্ঘমেয়াদি মাটির উর্বরতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন সার ব্যবহার হয়, যার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। পটাশ ও ফসফেটভিত্তিক সারের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫–২০২৯ সময়কালে সার চাহিদা আরও বাড়বে, যার পেছনে খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনায় সরকারের অগ্রাধিকার বড় ভূমিকা রাখবে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার একটি সুসংগঠিত সার ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আন্তর্জাতিক দরপত্র ও সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত সার আমদানি করছে, যাতে মৌসুমি ঘাটতি ও মূল্য অস্থিরতা কমে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ সার আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে স্থান পায়, যেখানে আমদানির পরিমাণ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ছিল।
এ প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে সার খাতে সহযোগিতা কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। চীন বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদক দেশ, যেখানে পটাশ, ডিএপি, টিএসপি ও অন্যান্য সার উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি সার সরবরাহ চুক্তি, যৌথ বিনিয়োগে সার প্রক্রিয়াজাত ও ব্লেন্ডিং কারখানা স্থাপন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সার ব্যবহারের সমন্বয় এবং বন্দর ও সংরক্ষণ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন।
তাদের মতে, সার শুধু কৃষি উপকরণ নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও শিল্প সক্ষমতার একটি কৌশলগত উপাদান। এ খাতে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে উঠলে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং দেশে টেকসই, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গঠনে তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

