সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ঘটে যাওয়া দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাটুরিয়া টর্নেডো-এর ৩৭ বছর পূর্ণ হলো আজ ২৬ এপ্রিল। ১৯৮৯ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী টর্নেডোর আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো সাটুরিয়া উপজেলা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকার স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
১৯৮৯ সালের ২৬ এপ্রিল ছিল পবিত্র রমজান মাসের একটি দিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল থেকেই ছিল অস্বাভাবিক গরম ও গুমোট আবহাওয়া। ইফতারের প্রস্তুতির সময়, মাগরিবের আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। এর পরপরই শুরু হয় ভয়ংকর ঘূর্ণিবায়ু, যা এক মিনিটেরও কম সময়ে পুরো জনপদকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
তৎকালীন হিসাব অনুযায়ী, টর্নেডোটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার। এতে সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া, হরগজ, তিল্লী ও ফুকুরহাটি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্রাণ হারান প্রায় ১,৩০০ মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় ২ হাজার এবং আহত হন ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ। গৃহহীন হয়ে পড়েন প্রায় এক লাখ মানুষ।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শত বছরের পুরোনো সাটুরিয়া বাজারসহ শত শত দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি স্থাপনা ও ফসলি জমি। ঘটনার পর দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ভয়াবহতার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী টর্নেডো হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনাটি আজও স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল এলে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়, আর শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

