সরিষা ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন: রৌমারীর দিগন্তজোড়া মাঠে ব্যস্ত মৌচাষিরা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষ, মধুর অপেক্ষায় চাষী / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


শীতের আগমনে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। মনোরম এই দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জন। সরিষা ক্ষেতকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা। আধুনিক পদ্ধতিতে বসানো মৌ-বক্স থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে শতভাগ খাঁটি ও প্রাকৃতিক মধু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুরা রোড, ফুলবাড়ী, বড়াইবাড়ী এবং বন্দবেড় ইউনিয়নের মদা ব্যাপারীর ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি মৌ-বক্স বসানো হয়েছে। মাঠজুড়ে মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত, আর মৌচাষিরা নিয়মিত বক্স পর্যবেক্ষণ ও মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মৌচাষিরা জানান, সরিষা ফুলের মধু স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অত্যন্ত উন্নত। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করা যায়। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভের অঙ্কও সন্তোষজনক।

রৌমারীর সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন সাতক্ষীরা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্যোক্তারা। সাতক্ষীরার মো. রাজ মিয়া তুরা রোডের পাশে ১২০টি মৌ-বক্স স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি সপ্তাহেই মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন সহযোগীকে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দিয়েও লাভ থাকে।”

একই এলাকায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মো. সুমন মিয়া প্রায় এক মাস ধরে বক্স বসিয়ে রয়েছেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এখনো মধু সংগ্রহ শুরু করতে না পারলেও কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে আশাবাদী তিনি।

বন্দবেড় ইউনিয়নে মো. রয়েল আহমেদ ৮০টি বক্স বসিয়ে ইতোমধ্যে দুই মণ মধু সংগ্রহ করেছেন। কুমিল্লার সাকিব ২৮টি বক্স নিয়ে মধু আহরণ করছেন এবং সামনের দিনগুলোতে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন।

মৌচাষিরা জানান, কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় মৌমাছি বক্স থেকে বের হতে না পারায় মধু সংগ্রহ কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে সামগ্রিকভাবে এটি অল্প বিনিয়োগে একটি লাভজনক উদ্যোগ।

রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। উপজেলার ১৬টি স্পটে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৬০টি মৌ-বক্স স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মৌমাছিরা সরিষার পরাগায়ণে সহায়তা করে, ফলে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। “মধু চাষের এই উদ্যোগ একদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে,”—বলেন তিনি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here