চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা সমুন্নত রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ছাড়া কোনো গণআন্দোলন সফল হতে পারে না। বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) নতুন কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিগত মতাদর্শ সবার থাকতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখলে সাধারণ মানুষ সেই সংবাদ বেশি গ্রহণ করে।
তিনি বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখনি সাংবাদিকদের পাশে থাকে।
শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাংবাদিক বান্ধব নানা কর্মসূচি সরকার হাতে নিচ্ছে। তারা যেমন সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করে গেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও তাই করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বিএনপি সরকার অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে অপতথ্য, অসত্য তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে কাজ করছে।
এআই ব্যবহার করে চরিত্রহননের মতো ঘটনা ঠেকাতে এবং এর সুফল-কুফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের সচেতন করতে তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের কল্যাণের বিষয়েও কথা বলেন ইয়াসির খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তার চেষ্টা চলছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ানোরও অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যেমন মিডিয়া হাউসগুলোর বকেয়া পরিশোধে চেষ্টা করছে, তেমনি মালিকদেরও নিশ্চিত করতে হবে যেন সাংবাদিকদের বেতন বকেয়া না থাকে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম হচ্ছে ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ বা জনগণের সংসদ। গত ১৬ বছরে দেশে কার্যকর সংসদের ঘাটতি থাকলেও কিছু সংবাদমাধ্যম জনগণের কথা তুলে ধরেছে। সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুল হক শাহীন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা গত দেড় দশকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বর্তমান সময়ে নির্ভীক সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিএমইউজের পক্ষ থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনকে সংগঠনের আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীসহ আগত অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে সিএমইউজের নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

