“শিশির ভেজা ভোরে শাকক্ষেতে কৃষকের হাসি, সমৃদ্ধ ফসলের আগমনী বার্তা”

0
208

বিশেষ প্রতিনিধি :

‎গ্রামের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ভোরের মিষ্টি আলো আর শিশিরভেজা ঘাসের উপর দিয়ে হেঁটে যখন কৃষকেরা মাঠে নামেন, তখন যেন প্রকৃতি নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করে। এমনই এক ভোরের দৃশ্যে শেরপুরের এক কৃষককে দেখা গেল নিজের শাকের জমিতে মনোযোগ সহকারে পরিচর্যা করতে। চারপাশে বিস্তৃত সবজি ক্ষেত; লাল শাক, পালং, ডাঁটা, কলমি—বিভিন্ন জাতের শাকের সতেজ সবুজে জমিটি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

‎কৃষকের ভাষ্যমতে, এ মৌসুমে তার জমিতে শাকের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। জমির উর্বরতা, সময়মতো পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শাকের চারা যেমন দ্রুত বেড়ে উঠেছে, তেমনি ফলনও হয়েছে অনেক বেশি। বিশেষ করে ভোরের শিশির শাকের বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে জানান তিনি।

‎স্থানীয় কৃষকদের মতে, শাকচাষ এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খুব বেশি খরচ ছাড়াই অল্প জমিতে শাক চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বাজারেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব শাকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, একই সঙ্গে পরিবারের সবজি চাহিদাও সহজে মেটানো যাচ্ছে।

‎কৃষক আরও জানান, প্রতিদিন ভোরে শিশিরভেজা সময়ে জমিতে কাজ করা তার অভ্যাস। এ সময় গাছের পাতা নরম থাকে, আগাছা ছেঁটে দেওয়া সহজ হয়, আর শীতল আবহাওয়ায় কাজ করতেও স্বস্তি লাগে। মাঠে কাজ করতে করতেই তিনি বলেন—

‎“দিনভর পরিশ্রমের পর যখন দেখি শাকগুলো বড় হয়ে উঠছে, তখন মনটা ভরে যায়। এটাই তো আমাদের জীবনের আনন্দ।”

‎শাকক্ষেতে এমন ব্যস্ত ভোরের দৃশ্য শুধু গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্যকেই তুলে ধরে না, তুলে ধরে কৃষকের অদম্য পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতার গল্পও। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এই শ্রমই গড়ে তোলে দেশের সবজি উৎপাদনের দৃঢ় ভিত।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here