কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার ছুটিতে থাকার সুযোগে তার ডিজিটাল ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে অনিয়মের মাধ্যমে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) মো. রাফিউর রহমান এবং অফিসের চেইনম্যান মো. এনামুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সার্ভেয়ার মো. তানভীর আহমেদ ছুটিতে থাকাকালে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কানুনগো পদের সুযোগ নিয়ে চেইনম্যান মো. এনামুল হককে অনিয়মিতভাবে কানুনগোর দায়িত্বে বসানো হয়। এরপর সার্ভেয়ারের ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা পোর্টালে প্রবেশ করে একাধিক নামজারি সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. আব্দুল কুদ্দুছের নামে একটি নামজারি আবেদন (নম্বর: ৫৭১১৮৯৫), যার শুনানির তারিখ ছিল গত ২ এপ্রিল, সেটি অনিয়মের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এ ঘটনায় বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা মো. আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, নামজারির জন্য তারা ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তবে কে কানুনগোর দায়িত্ব পালন করেছেন, সে বিষয়ে তাদের জানা নেই।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
চেইনম্যান মো. এনামুল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “যারা এসব তথ্য দিয়েছে, তা ভুয়া।” ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনালাপ শেষ করে দেন।
সার্ভেয়ার ও ভারপ্রাপ্ত কানুনগো মো. তানভীর আহমেদ বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন—এটি সত্য। তবে তার ডিজিটাল আইডি অপব্যবহার হয়েছে কি না, সেটি তিনি অফিসিয়ালভাবে খতিয়ে দেখবেন। তিনি আরও বলেন, আইডি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে এসিল্যান্ডই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি অফিসের অভ্যন্তরীণ। প্রতিবেদকের কাছে তথ্যের উৎস ও নথিপত্র সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারি গোপন নথি কাউকে দেখানোর নিয়ম নেই।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি জানান, এসিল্যান্ড প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলে নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

