কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজে কোনো ধরনের টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো প্রায় ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান।
বুধবার (১৩ মে) কলেজ চত্বর থেকে একটি বিশাল শিমুল গাছ ও দুটি মেহগনি গাছ কাটা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা গাছগুলো কেটে স’মিলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শ্রমিকদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা গাছ কাটছেন এবং এই কাঠের গন্তব্য বা ব্যবহার সম্পর্কে তারা বিস্তারিত কিছু জানেন না।
সরকারি বা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বন বিভাগে আবেদনের মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে উন্মুক্ত টেন্ডার বা নিলামের আয়োজন করতে হয়। নিলামের টাকা সরকারি কোষাগার বা কলেজের নির্দিষ্ট ফান্ডে জমা দিতে হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন— কাউকেই বিষয়টি জানানো হয়নি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজে যা খুশি তাই করছেন। গাছ কাটার বিষয়ে কোনো রেজুলেশন বা আলোচনা করা হয়নি। আমরা কিছুই জানি না।
অন্যদিকে, একজন অভিভাবক বিষয়টিকে পরিবেশ বিধ্বংসী ও নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান নিয়ম না জানার অজুহাত দিয়ে বলেন, আমি সব গাছ বিক্রি করিনি। শুধু শিমুল গাছটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। বাকিগুলো দিয়ে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ তৈরি করা হবে। তবে গাছ কাটার কোনো নিয়মনীতি আমার জানা নেই।
রৌমারী বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, গাছ কাটার আগে বন বিভাগ থেকে মূল্য নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক, যা এই ক্ষেত্রে করা হয়নি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের কমিটি কোনো ধরনের অনুমোদন দেয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

