রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

রাজশাহী প্রতিনিধি :

 

আঞ্চলিকভাবে কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধিসহ জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় নীতিমালা করার কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে “বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপ: এগ্রোইকোলজি দেখাচ্ছে নতুন পথ” শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপ রাজশাহীর এস.কে ফুড সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার ( ১১ মে) উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র আয়োজনে ও রোজা লাক্সেমবার্গ স্টিফটুং সাউথ এশিয়া (ROSA LUXEMBURG STIFTUNG SOUTH ASIA) সহযোগীতায় উক্ত সংলাপে কৃষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা, দেশি বীজ সংরক্ষণ, নারী কৃষকের ভূমিকা এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য, কম খরচের কৃষি এবং কৃষকের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি শুধু কৃষি পদ্ধতি নয়, বরং এটি পরিবেশগত ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর পথ।

সংলাপে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিক’র পরিচালক সিলভানুস লামিন, সংলাপটি সঞ্চালনা করেন শাহেদা পূর্ণ। সংলাপের শুরুতে কৃষিপ্রতিবেশ সংকট এবং সম্ভাবনা বিষয়ক মাঠ অভিজ্ঞতা পাওয়ার পয়েন্ট ভিত্তিক উপস্থাপন করেন বারসিকের পলিসি এন্ড রিসার্স অফিসার আম্রিণ বিনতে আজাদ।

এরপর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিপ্রতিবেশ বা এগ্রোইকোলজি এবং জলবায়ু সহনশলি খাদ্য ব্যবস্থায় কি কি করনীয় তা অংশগ্রহণকারীগণ তুলে ধরেন। সংলাপ থেকে জলবায়ু সহনশীল, কৃষকবান্ধব ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

গ্রিন কোয়ালিশনের রাজশাহী জেলার সভাপতি ও নদী পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন- “ বরেন্দ্র অঞ্চল একটি অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল, এখানে পানি নির্ভর ধান নয়, এখানে রবিশস্যের চাষ বাড়াতে হবে।” তিনি আরো বলেন- কৃষিপ্রতিবেশ ঠিক রাখতে হলে এখানে পরিবেশ ধ্বংস করা যাবেনা।

পবা উপজেলার কারিগর পাড়ার কৃষাণী রেনুকা বেগম বলেন- কৃষিতে নারীকে নিয়ে শুধু কথাই হয়, কিন্তু কৃষিতে নারীর মূল্যায়ন এবং মর্যাদা দেয়া হয়না। তিনি কৃষি নীতিতে নারীর জন্য আলাদা বরাদ্দের দাবি করেন।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন- “কৃষিপ্রতিবেশ বিষয়ক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে এসব যুক্ত করতে হবে।” তিনি আরো বলেন- নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়া একটি জাতি এগিয়ে যেতে পারেনা।

সংলাপে বক্তব্য দেন- গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী মহানগর আহবায়ক জামাল কাদেরী, রাজশাহী নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রয়, বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংকের সভাপতি জায়দুর রহমানসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

সংলাপের সমাপনী এবং কৃষিপ্রতিবেশ ভিত্তিক নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন- বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন- “উন্নয়ন করতে গিয়ে যতো পরিবেশ ধ্বংস, প্রাণপ্রতিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে, ততোই কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা সংকটের মধ্যে পড়ছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সমস্যা সমাধানে যতো আইন তৈরী হয়েছে সেগুলো অনেকটাই কৃষকবান্ধব নয় এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক এবং ঐতিহ্যকে পূর্ণাঙ্গরুপে সমর্থন করেনা। আইন এবং নীতিমালা শুধু কৃষকদের উপর চাপিয়ে দেবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ” তিনি আরো বলেন, আইন করতে হলে কৃষকদের মতামত এবং আঞ্চলিক বিষয়টিকে গুুরত্ব দিয়ে করতে হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here