রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে জোরপূর্বক জমি দখলকারী শেখ সাদাত আলী তুষারের বিরুদ্ধে রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাবে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনটি করেন আরএমপি বোয়ালিয়া থানাধীন মৃত আরল্লান মন্ডল ওরফে আরমান মন্ডলের ছেলে আব্দুর রশিদ। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এডভোকেট সেলিম আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন জেলা- রাজশাহী, থানা- বোয়ালিয়া, মৌজা হাল- ৭৭নং বহরমপুর, প্রজা খাতিয়ান নং- আর এস ৯১, দাগ নং- আর এস-৪০৪, পরিমান- .৪০০০ একর কাত .০২৯০ একর।
এই জমিটি শেখ সাদাত আলী তুষার জোরপূর্বক জবর দখল করে রেখেছেন। জমি ছেড়ে দিতে বললে তিনি মারতে আসেন। সেইসাথে নানা ধরনের হুমকী ধামকী দিয়ে আসছেন। তুষার একজন স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের দোসর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আব্দুর রশিদ এর দাদা মৃত চয়ন মন্ডলের নিকট থেকে তার পিতা: মৃত আরল্লান মন্ডল ওরফে আরমান মন্ডল ক্রয়কৃত দলিল মূলে এই জমি প্রাপ্ত হন। জমির পরিমান ৪০ (চল্লিশ) শতাংশ। আব্দুর রশিদ তার পিতা মৃত আরল্লান মন্ডল ওরফে আরমান মন্ডলের নিকট থেকে ২০-১১-২০১১ সালে ০.০ ২৯০ একর জমি ক্রয় করেন।
তিনি আরো বলেন, তার পিতার নিকট থেকে ১৯৮৪ সালে দুই বারে শেখ আবু আলী পিতা- বিরু শেখ, লতিফা খাতুন স্বামী- শেখ আবু আলী ও ফরজ আলী পিতা- তুষ্টু শেখ ০.১১ ৫০ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তিতে শেখ আবু আলীর ছেলে শেখ সাদাত আলী তুষার আওয়ামীলীগের ক্যাডার হিসাবে পরিচিত এবং পলাতক মেয়র এ্ইচএম খায়রুজ্জামানের (লিটন) দেহরক্ষি হিসাবে পরিচয় দিয়ে বেড়াত। শেখ নাসিম আলী, শেখ মাসুদ আলী, ইসমত আরা, জিন্নাত আরা, ফেরদৌস আরা, সকলের পিতা- শেখ আবু আলী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন শেখ সাদাত আলি তুষার জবর দখল করে রাতারাতি সেখানে একটি দোকান ঘর নির্মাণ করে। আব্দুর রশিদ জানতে পেরে দোকান ঘরটি সরিয়ে নিতে বললে তুষার জানায় জায়গাটি তাঁর এবং তাদের নাম সহ একটি নেমপ্লেট ঝুলিয়ে দেয়। এ নিয়ে তিনি থানা কে জানালে থানা পুলিশ এসে দেখে চলে যায়। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই। পরে আব্দুর রশিদ ৩ নং ওয়ার্ড কমিশনারকে জানালে তিনি এসে দেখে সাদাত আলী তুষারকে দোকানটি সরিয়ে নিতে বলে। কিন্তু তুষার কোন কথায় শোনেনা বলে জানান দিনি। এমনকি মামলায় দিয়ে জেল হাজতে পাঠাবে বলে হুমকি দেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পরবর্তিতে তিনি পলাতক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এর নিকট নালিশ দিলে সে সময়ে মেয়রের সামনেই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মেয়র বিষয়টি পরে দেখবেন বলে জানিয়ে ছিলেন। মেয়র কোন ব্যবস্থা না নিলে আব্দুর রশিদ নিজে আমিন ডেকে জায়গা মাপ করেন। সেই সময় শেখ সাদাত আলী তুষার বাধা দেয়। এরপর আমিন তাদের নিকট কাগজ দেখতে চাইলে আমিন কে বলে, এই জায়গার মালিক আমি, আমি কেন তোমাকে কাগজ দেখাবো। নানা ভাবে জমিটি উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তুষার তাদের ক্ষমতা বলে তার জায়গা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন বলে জানান।
এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, গত ২৮-০৭-২০২৫ ইং তারিখ রাজপাড়া থানায় আমি আমার জায়গার কাগজ পত্র নিয়ে ও বিবাদি শেখ সাদাত আলীর কাগজ নিয়ে বসা ও জায়গাটি মাপার জন্য দরখাস্ত করেন। বিবাদিরা এলে তার দলিল দেখায়। কিন্তু দলিল এর ফটো কপি দিতে রাজি হয় না। পরবর্তিতে রাজপাড়া থানার এস.আই নেফাউল বলেন, আপনাদের দলিল নম্বর তাদের দেন তারা চেক করে দেখুক। তার দলিলের নম্বর দিলে চেক করে দেখা যায় ২ টি দলিলের কোন সন্ধান নাই। এর মধ্যে একটি দলিল জাল। পরবর্তীতে বাসর জন্য এস.আই নেফাউল তুষার কে বার বার কল করলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। এস.আই নেফাউল অনেক চেষ্টার পর তুষারের সাথে কথা বলে।
তুষার বলেন, “ তিনি কারো সাথে বসবেন না। শেখ সাদাত আলী তুষার আমার জায়গাটি এখনো দখল করে রেখেছে। শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু (এমপি) সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিকট জমিটি উদ্ধার করে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ সাদাত আলী তুষার বলে তাদের পক্ষে কোর্টের রায় আছে। সেইসাথে জমির দলিলও তাদের আছে বলে জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

