কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজারে অবস্থিত ছোট্ট একটি হোটেল এখন মানবতার আলো ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত “পাগলা হোটেল” নামে। নাম শুনে অনেকেই চমকে উঠলেও, এই হোটেল আসলে সহানুভূতি ও ভালোবাসার এক অসাধারণ উদাহরণ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
হোটেলের মালিক মো. রনজু মিয়া—হাতিয়া ইউনিয়নের নয়াগ্রাম টসাপাড়া এলাকার নজির হোসেনের ছেলে। শৈশব থেকেই তিনি অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের কষ্ট দেখে ব্যথিত হতেন। সেই মানবিক অনুভূতি থেকেই তিনি নিজের ছোট্ট খাবারের দোকানটি খুলে শুরু করেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ বিনামূল্যে খাবার পান।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রনজু মিয়া নিজেই রান্না করছেন ও অতিথিদের খাবার পরিবেশন করছেন। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার হোটেলে ফ্রি খাবারের আয়োজন থাকে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এখানে এসে সাদর আপ্যায়ন পান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, “যেখানে সবাই নিজের স্বার্থে ব্যস্ত, সেখানে রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ আমাদের মানবতার শিক্ষা দিয়েছে। এটি শুধু খাবার নয়, এটি এক টুকরো মমতার প্রতীক।”
মো. রনজু মিয়া বলেন, “মানুষকে ভালোবাসাই জীবনের আসল শান্তি। সমাজের বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”
হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শায়খুল ইসলাম বলেন, “পাগলা হোটেল এখন মানবতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে—অর্থ নয়, ভালোবাসাই পারে সমাজে পরিবর্তন আনতে।”
রনজু মিয়ার এই ‘পাগলা হোটেল’ প্রমাণ করেছে—আজও সমাজে এমন মানুষ আছেন, যাদের হৃদয়ে মানবতার শিখা জ্বলে অটুটভাবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

