ভোটাধিকার সবার, তবে মাঠে থাকা সাংবাদিকদের নয়?

0
260

বরিশাল ব্যুরো :

গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র যখন প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটসহ নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে—নির্বাচনের দিন মাঠে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নির্বাচন মানেই সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দপ্তর, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, রাজনৈতিক কার্যালয়—সবখানেই সাংবাদিকদের নিরলস উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। অথচ এই দায়িত্ব পালনের কারণেই বহু সাংবাদিক নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। বাস্তবতা হলো, যারা নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজ করেন, তারাই অনেক সময় নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।

এখানে এক ধরনের নীতিগত বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা প্রশংসনীয় হলেও, দেশের ভেতরে দায়িত্বশীল পেশাজীবী—বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা হতাশাজনক। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে যাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের উপেক্ষা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে থাকা পেশাজীবীদের জন্য ডিউটি ভোট, অগ্রিম ভোট বা পোস্টাল ব্যালট–এর ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন চাইলে অনুমোদিত সাংবাদিকদের তালিকার ভিত্তিতে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে পারে। অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে হলেও এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

গণতন্ত্রের স্বার্থেই এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রয়োজন। যারা নির্বাচন কাভার করে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করেন, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে সেই গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। রাষ্ট্র, নির্বাচন কমিশন এবং নীতিনির্ধারকদের এখনই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here