কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিরোধপূর্ণ একটি সড়ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের উমরমজিদ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের একটি রেকর্ডভুক্ত বেদখল সড়ক উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ওই সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে গেলে জয়নাল মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে আব্দুর সাত্তারের ছেলে জিন্নাত আলী (৪০)-এর বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষে জিন্নাত আলী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। এছাড়া জয়নাল মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে নয়ন আলী (২৫) আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় নয়ন আলীরও মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর এলাকায় প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিলা তাসনিম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

