নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব শুল্যকিয়া গ্রামে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, দখল ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিচার দাবি করেন পূর্ব শুল্যকিয়া গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে মো. সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে সুমনের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া, বাবা আবদুল হালিম, ভাই মো. ছানা উল্যাহসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. সুমন অভিযোগ করেন, গত ৬-৭ বছর ধরে স্থানীয় আব্দুল বারেকের ছেলে মো. কামাল, মো. জামাল, মো. বাকের, সাবিছ উদ্দিন, মো. বোরহান, আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন তার মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তার দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তারা বিএনপির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জায়গা-জমি দখল করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উত্তর ওয়াপদা বাজারে তাকে জমির দখল ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করলে ১৮ মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সুমনের ভাষ্য, ১৯ মে জমিতে মাটি কাটার সময় আবারও বাধা দেওয়া হয়। এরপর ২২ মে ভোরে তার একটি বসতঘর ও খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও পরবর্তীতে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং জোরপূর্বক বসতঘর দখল করেন। এ সময় রান্নাঘর ও বাথরুম ভাঙচুর এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এছাড়া প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গরু, মুরগি ও মাছ লুটের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তাকে ও তার স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা পরস্পরের আত্মীয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উভয় পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনার পর বসতঘর দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

