কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্যবিয়ের অভিযোগে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দম্পতিকে প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। ঘটনাটি উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মো. মাইদুল ইসলামের ছেলে মো. খোরশেদ আলম এবং একই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মো. আজিজুল হকের মেয়ে মোছা. আয়েশা খাতুন প্রায় ছয় মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন। তারা দুজনই কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা বিয়ের পরও তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ১ জুলাই শুরু হওয়া দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন ওই শিক্ষার্থী দম্পতি। পরীক্ষার দিন আয়েশার বাবা বিদ্যালয়ে গিয়ে বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি জমা দিতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থী মো. খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। সব পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষিত হতে চাই। আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হোক।”
একই দাবি জানিয়ে আয়েশা খাতুন বলেন, “বিয়ে করেছি বলে আমাদের লেখাপড়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসএসসি পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “দুই শিক্ষার্থী বাল্যবিয়েসহ নানা অনিয়ম করেছে। এতে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাদের প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারা এই বিদ্যালয়ে আর নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারবে না। তবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আব্দুস ছালাম বলেন, “বাল্যবিয়ে অবশ্যই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে বিয়ে হয়েছে বলে কোনো শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা বা পরীক্ষা থেকে বিরত রাখার বিধান নেই। বরং বিবাহিত শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।”
ঘটনাটি শিক্ষার অধিকার, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

