বাগেরহাট প্রতিনিধি :
বাগেরহাট জেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শেষ দিনে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। দীর্ঘদিন খাল দখলে থাকায় কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবির সঙ্গে প্রশাসন একমত। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পুনরায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল ও হোজির খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব খালে বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিকাজে পানির সংকট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার খালগুলো আবারও জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি দেওয়ার পর আপাতত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

