গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমানকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। শিক্ষকরা এ নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকবৃন্দের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী একাডেমিক নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলে তা শিক্ষকদের প্রতি অবমূল্যায়নের শামিল হবে।
গাকৃবিশিসের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে যোগ্যতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতায় সমৃদ্ধ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে অভ্যন্তরীণ যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের দাবি জানান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সভায় শিক্ষকরা সর্বসম্মতিক্রমে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও মতামত উপেক্ষা করে এ নিয়োগ কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নিলে তা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করা হবে। তারা বলেন, একাডেমিক পরিবেশ, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
পরে শিক্ষক সমিতি প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং প্রতীকীভাবে ভবন অবরোধ করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বতন্ত্র ও উন্নয়নশীল প্রতিষ্ঠান। এখানে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও শিক্ষকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি দ্রুত এ নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষক সমিতি ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। ৭ জুন ২০২৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর তারা তা প্রত্যাহারের দাবি তোলে।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

