পদ্মায় ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকার: দুই জেলে কারাদণ্ড, এক কিশোর মুচলেকায় মুক্ত

0
213
ইলেকট্রিক শক দিয়ে পদ্মায় মাছ শিকার, জনতার হাতে আটক ৩ / ছবি - এই বাংলা

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :

ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর আন্ধারমানিক মাছের আড়ৎ থেকে তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। আটকের পর উপজেলা মৎস্য অফিসের নিকট হস্তান্তর করার পর উপজেলা প্রশাসন দুই জনকে ৭দিন করে জেল, একজনকে অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

আটককৃতরা হলেন, রাজবাড়ি জেলার গোয়লন্দ উপজেলা রাখালগাছি গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও সাইফুল শেখ এবং পাবনা জেলার আমিনপুর থানা ডালারচর গ্রামের কাউছার সরদার।

মাছ শিকারের সরঞ্জাম হিসেবে একটি ইলেকট্রিক ছুবনী/ছিপি, ১২ ভোল্টের তিনটা ব্যাটারী, ২৬৮০০০০ ওয়াটের একটি ইনভার্টার/আইপিএস, ২টা ফগ লাইট জব্দ করে থানার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি ভাড়ায় চালিত হওয়ায় সেটি জব্দ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত কয়েকমাস ধরে ব্যাটারী,ইনভার্টারের সাহায্যে হাই ভোল্টেজ তৈরী করে ইলেকট্রিক ছুবনি/ছিপি দিয়ে নিয়মিত মাছ শিকার করে অন্য জেলা থেকে আসা বেশ কিছু জেলে। ইলেকট্রিক ছিপি/ছুবনি পানিতে প্রবেশ করালে প্রায় ৩০/৪০ মিটার এরিয়ায় থাকা পানির নিচের সকল প্রাণী মারা যাওয়ার পর ভেসে উঠে। ভেসে উঠারপর বড়,মাঝারি,ছোট মাছগুলোকে তুলে উপজেলার বিভিন্ন আড়ৎ, বাজারে বিক্রি করা হয়। আন্ধারমানিক পদ্মানদীরপাড়ে মৎস্য আড়তে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছগুলো বিক্রির সময় স্থানীয়রা মাছ ও নৌকা দেখে চারজনকে ধাওয়া করে। একজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করে উপজেলা মৎস্য অফিসে সোপর্দ করার পর দুইজনকে ৭ দিন করে জেল এবং একজনকে অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় মুচলেকা দিয়ে ছেরে দেওয়া হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ইলিশ প্রকল্পের ক্ষেত্র সহকারী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আজকে সকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরকম নিয়মিত অভিযান অব্যহত থাকবে। অবৈধ মৎস্য শিকারীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইজা বিসরাত হোসেন জানান, আজ সকালে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে মৎস্য অফিসে সোপর্দ করারপর উপজেলা মৎস্য অফিস প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদন দাখিলের পর মোবাইল কোর্ট অপরাধ ২০০৯ এর ৭/১ ধারা অনুযায়ী দন্ডবিধির ১৮০৭ এর ৮৮৮ মোতাবেক দুইজনকে ৭দিন করে জেল দেয়া হয়েছে। একজনকে অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় মুচলেকা দিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দ তালিকায় ইলেকট্রিক শকার, ব্যাটারি,জালসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি পুলিশের জিম্মায় দিয়েছি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here