ববি প্রতিনিধি :
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নীতিমালাজনিত জটিলতায় প্রায় ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় তৈরি হয়েছে অসন্তোষ ও অচলাবস্থার আশঙ্কা। শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম নানা অজুহাতে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন। অন্যদিকে উপাচার্য বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪টি অধ্যাপক, ৩০টি সহযোগী অধ্যাপক এবং ৬টি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবি রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
গত ৯ এপ্রিল সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ নভেম্বর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ড সম্পন্ন হলেও এখনো সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ থাকাসহ গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা। তারা দাবি করেন, গত কয়েক মাসে একাধিকবার উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান মেলেনি। পরিস্থিতি নিরসনে শিক্ষকরা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেন, ইউজিসির আপত্তির কারণে পূর্বের নীতিমালায় পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করেই পদোন্নতি দিতে হবে বলে নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেই নীতিমালা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
এ অবস্থায় দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

