নিম্নমানের সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে অবরোধ ও বিক্ষোভ

কুড়িগ্রাম পৌরসভায় কমিশনের খেলায় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, ধুলোয় দমবন্ধ, ক্ষোভে রাস্তায় নামলেন এলাকাবাসী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পৌর এলাকার জাহাজমোড় ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের কাজ ও ধুলোবালির ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করায় তা যানবাহনের চাপে দ্রুত গুঁড়ো হয়ে ধুলোয় পরিণত হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম পরিবেশদূষণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাহাজমোড় এলাকার বাসিন্দা মোঃ সঞ্জু মিয়া বলেন, “এমন খারাপ মানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে যে, গাড়ির চাকা পড়লেই তা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এখন পুরো এলাকা লাল ধুলোয় ঢেকে গেছে। আমরা ঠিকমতো বসবাসই করতে পারছিনা, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

একই অভিযোগ করেন হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করলেও পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে কমিশন দিয়ে তা চালিয়ে যাচ্ছে। টপ-টু-বটম সবাই এই ভাগ পাচ্ছে বলেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং দুর্নীতি আড়াল করতেই ডিসিকে লাল গালিচা সংবর্ধনাসহ নানা বাহারি আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা এই কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে, ধুলোবালির কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ নুরজামাল। তিনি বলেন, “ধুলোর কারণে হোটেলে খাবার রাখা যাচ্ছেনা। ক্রেতারা আসছে না, কর্মচারীরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত টেকসই কাজ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও সড়ক নির্মাণে কোনো গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে না। নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলো নিয়ন্ত্রণের মতো ন্যূনতম ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মোঃ ইনসান আলী বলেন, “ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সড়কের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ড্রেন শেষ হলেই দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করা হবে। ধুলোবালি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে এবং কাজ চলাকালে ধুলা নিয়ন্ত্রণে দিনে অন্তত তিনবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শামীমা আক্তার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আইয়ুব আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়িত্বশীলদের নীরবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বি.এম কুদরত-এ-খুদাকে ফোন দিলে তাঁর ফোন টি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের করের টাকায় হওয়া উন্নয়ন কাজ যদি এভাবে দুর্নীতি আর অনিয়মের শিকার হয়, তাহলে এর জবাবদিহি করবে কে? এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, নাকি আগের মতোই সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here