নাসিরনগরে সরিষা চাষে অনাগ্রহ: কৃষকের প্রধান অভিযোগ উৎপাদন খরচ ও মুনাফার সংকট

0
101
ঝালকাঠির দিগন্ত জুড়ে হলদে আল্পনার গালিচা ঢেউ! উন্নত জাতের সরিষা চাষে বাম্পার ফলন / ছবি - এই বাংলা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :


ব্রাহ্মণবাড়ীয়া কৃষি নির্ভর জেলা হিসেবে পরিচিত হলেও জেলার নাসিরনগর উপজেলায় দিন দিন কমছে সরিষা চাষ। একসময় উপজেলায় সরিষা ছিল শীতের অন্যতম জনপ্রিয় ফসল, কিন্তু উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত মুনাফা না পাওয়ায় ফসলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। এর ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে সরিষা আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ইরি ধানের ব্যাপক বিস্তার, সময়মতো ফলন না পাওয়া, শ্রমিক সংকট ও বাজারে মূল্য কম পাওয়া—এসব কারণে সরিষা চাষ আর পূর্বের মতো লাভজনক থাকছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসাইন বলেন, “সরিষা চাষে সেচ কম লাগে এবং অল্প সময়ে উত্তোলন করা যায়। তবু উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ কমছে। তবে আমরা বিভিন্ন প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে চাষিরা যাতে আবার সরিষার দিকে আগ্রহী হন—সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

উপজেলার ফান্দাউক, বুড়িশ্বর, চাপরতলা, গুনিয়াউক ও ধর্মন্ডল ইউনিয়নে এখনও কিছু সরিষার আবাদ হচ্ছে। তবে অন্যান্য এলাকায় সরিষাচাষ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।

নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়ার কৃষক শাহ আলম বলেন, “আগে সরিষা চাষ করতাম। লাভ ছিল। কিন্তু এখন চারপাশে শুধু ইরি ধান। সরিষার জায়গাই নেই।”

নাসিরপুর গ্রামের কৃষক মতি মিয়া জানান, “এবার খুব অল্প জমিতে সরিষা করেছি নিজেদের প্রয়োজনের জন্য। বেশি করে করলে লাভ থাকে না।”

কৃষকদের অংশবিশেষ দাবি, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ফলন বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ মিললে আবারও সরিষা আবাদ বাড়াতে তারা আগ্রহী হবেন।

উপজেলা কৃষি দপ্তর জানায়, সরিষা চাষের উপযোগী অনেক জমি এখন উচ্চমূল্যের সবজি বা ইরি ধান চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার কারণে সরিষা চাষ কমে যাচ্ছে। তবুও প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here