নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চক বাজারটি মেঘনার নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পাড়ে আরসিসি পাইলিং রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক না থাকায় চক বাজারের প্রাঙ্গণের মাটি ভেঙ্গে যাচ্ছে।
বর্তমানে আবারও টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারনে নতুন করে ভাঙ্গনে চক বাজারের দোকান ঘর যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার নদীর তীব্র স্রোতে চাতলপাড় চকবাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ার হুমকির মুখে রয়েছে।
চকবাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, চক বাজারের মেঘনার স্রোতে চকবাজারসহ আশপাশ প্রতিনিয়ত ভাঙ্গছে। গত বছর আমার একটি দোকান বিলীন হয়ে গেছে। আবারও নতুন করে ভাঙ্গনের ফলে তার আরেকটি দোকানঘর যেকোনো সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ৫-৬ বছর ধরে চাতলপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চকবাজার সংলগ্ন একটি মসজিদ ও চক বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চাতলপাড় ইউনিয়নের আয়তন ২৩.৬৩ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৪,০৮৬ জন। এ ইউনিয়নের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনা নদী।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিনয় রায় বলেন,দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার ভাঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। তাই নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন।
মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে চাতলপাড় বড়বাজার, চকবাজার ও বিলেরপাড় এলাকার বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীন বলেন, “নদী ভাঙন রোধে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
চাতলপাড় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবি-দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনের আশঙ্কা থাকলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ করে এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

