নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই পানি পান করার পর অন্তত ৩৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরুর আগে বিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। পরে একে একে আরও অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে পেটব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি টিউবওয়েলের পাশে গিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ দেখতে পান। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদা গুঁড়ার মতো একটি বস্তু এবং পানিতে অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভব করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাদির আহম্মেদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। টিউবওয়েলের পানিতে কী ধরনের পদার্থ মেশানো হয়েছিল, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর জানান, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানির নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

