নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি ত্রাণ ও বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইলিয়াস হোসেন প্রায় ছয় বছর ধরে নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি রাজবাড়ী জেলায় মাস্টাররোলে চাকরি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একসময় সাধারণ পারিবারিক অবস্থায় জীবনযাপন করা ইলিয়াস হোসেন চাকরিতে যোগদানের পর দ্রুত আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। বর্তমানে নগরকান্দা পৌরসভার মধ্য জগদিয়া এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ জমির ওপর পাকা ভবন ও একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জমির বিক্রেতা মিতুল হোসেন জানান, শতাংশপ্রতি প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ওই সম্পত্তির বাজারমূল্য এক কোটির টাকারও বেশি।
এছাড়া গাং জগদিয়া মৌজার বিএস ৫২৫ নম্বর দাগের ৩ শতক জমি ২০২৫ সালের ১২ মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ইলিয়াস হোসেনের নামে হস্তান্তর করা হয়। দলিলে জমির মূল্য ৩১ লাখ ৫ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার নামে থাকা দুটি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই কমিশনের একটি অংশ অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন গ্রহণ করেন।
এছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার টিন পেলেও নির্ধারিত নগদ সহায়তা পাননি। আবার কোথাও নগদ অর্থ দেওয়া হলেও টিন বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। নিকটাত্মীয় ও পরিচিত ব্যক্তিদের নামে টিন বরাদ্দ এনে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করেও উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হতে পারিনি। অথচ একজন অফিস সহকারী অল্প সময়ে যেভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেটি অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।”
একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের স্ট্যাম্প বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে কৃষ্ণনা রানী নামে এক নারী অভিযোগ করেন, জিআর প্রকল্পের বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তার কাছ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “এসব নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। কাজ করতে গেলে এদিক-সেদিক একটু অনিয়ম হতেই পারে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

