নওগাঁর দুবলহাটিতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়কে নিজের দাবি, এলাকায় তীব্র সমালোচনা  

নওগাঁ প্রতিনিধি :

 

নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ভূমি অফিস সংলগ্ন বাজার এলাকায় অবস্থিত দুবলহাটি বনগাঁ মৌজার আরএস-১নং খতিয়ানের ১০ নং দাগের একটি ঘর, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেটি সম্প্রতি সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে এই ঘরটির মালিকানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত ঘরটি বহু বছর ধরে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা এবং নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমের কারণে কার্যালয়টি কিছুটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় উদ্যোগে ঘরটি সংস্কার করে আবারও কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এদিকে, রাজ্জাক ওরফে রাজু (স্থানীয়ভাবে রাজা নামে পরিচিত) নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই ঘরটির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার এই দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাজ্জাক ওরফে রাজা একজন ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ এবং তার বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তাদের দাবি, উক্ত ঘরটি বহু বছর ধরে বিএনপির কার্যালয় হিসেবেই পরিচিত এবং ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজ্জাকের কোনো মালিকানা সেখানে নেই বলেও তারা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। রাজ্জাক প্রায় এক যুগের অধিক সময় ধরে জুয়ার বোর্ড চালিয়ে” জুয়া” পরিচালনা করে আসছে। তিনি জুয়া কারবারী হিসেবেও পরিচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজ্জাক ওরফে রাজা বলেন, তিনি ২০২৫ সালে ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার) জলার কর্তন করেছিলাম।

তবে এর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। দোকানঘরটি প্রকৃতপক্ষে তার কিনা,এ প্রশ্নেরও সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন তিনি। তবুও তিনি ঘরটির মালিকানা নিজের বলে দাবি করে আসছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজল রশিদ চান্দু বলেন, রাজ্জাক কীভাবে এই ঘর বা জায়গার মালিকানা দাবি করছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটি আমাদের দলীয় কার্যালয়, এবং পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে যথাযথ অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সহানুভূতি অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছেন, যা অনভিপ্রেত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অধিকাংশই ঘরটির দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিএনপির দাবিকেই সমর্থন করছেন। তবে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুস্পষ্ট তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here