ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছা মণ্ডা এখন আতঙ্ক অস্বাস্থ্যকর কারখানায় তৈরি মিষ্টি খেয়ে হাসপাতালে ভোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছার মণ্ডার সুনাম ব্যবহার করে ময়মনসিংহের মেছুয়া বাজারের একটি কারখানায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করে নতুন বাজার মোড়ের শাখায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সেই মণ্ডা খেয়ে এক ক্রেতা ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরেজমিনে ভয়াবহ চিত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেছুয়া বাজারের ওই কারখানায় কারিগররা হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়াই খালি হাতে ছানা মাখছেন। ঘামে ভেজা শরীরে অপরিষ্কার হাতে মণ্ডা তৈরি হচ্ছে।

কারখানার মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা, দেয়ালে তেলচিটে দাগ আর চারপাশে মাছির উপদ্রব। তৈরি মণ্ডা ঢাকনাবিহীন পাত্রে খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে।

তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ছানার পাত্রের পাশেই টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং স্টোররুমে ইঁদুরের বিষ্ঠা পড়ে আছে। কারখানার মেঝেতেও ইঁদুরের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই কারখানায় তৈরি মণ্ডাই প্রতিদিন নতুন বাজার মোড়ের শাখায় সরবরাহ করা হয়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা মো. মঞ্জুর আলম জানান, নতুন বাজার মোড়ের শাখা থেকে মণ্ডা কিনে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তার পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঐতিহ্যের নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রশাসনের দ্রুত অভিযান দরকার।”চিকিৎসকের সতর্কবার্তা ময়মনসিংহ মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, “ইঁদুর ও টিকটিকির বিষ্ঠা থেকে সালমোনেলা, ই-কোলাই ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।

এসব জীবাণুযুক্ত খাবার খেলে টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, জন্ডিস হতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “নোংরা হাতে খাবার তৈরি ও খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করা সরাসরি বিষক্রিয়ার কারণ।”

মালিকপক্ষের নীরবতা প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন মালিকের একজন মিহির কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নতুন বাজার মোড়ের শাখাটি এখনও চালু রয়েছে এবং সেখানে মণ্ডা বিক্রি চলছে।প্রশাসন যা বলছে মুক্তাগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, “মেছুয়া বাজারের কারখানাসহ নতুন বাজার মোড়ের শাখার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত মনিটরিং ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here