সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইটনায় জলমহল দখলের চেষ্টার অভিযোগ, ইজারাদারদের মানববন্ধন

স্টাফ রিপাের্টার
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহল জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, বৈধ ইজারাদারদের মাছ আহরণে বাধা, হুমকি ও নৌকা ভাঙচুরের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ইজারাগ্রহীতা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জেলে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম মেনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকায় পাঁচকাহনীয়া জলমহল ইজারা নেওয়া হলেও সেখানে স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও চাষাবাদ করতে পারছেন না তারা। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বড়িবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন বলেন, নিয়ম মেনেই জলমহলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন বাধার কারণে ইজারাদাররা মাছ আহরণ করতে পারছেন না। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। বৈধ ইজারাদারদের নির্বিঘ্নে মাছ আহরণের সুযোগ করে দিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সামিউল হাসান রাব্বী অভিযোগ করেন, জলমহল ইজারা পাওয়ার পর থেকেই তাদের লোকজনকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি একটি নৌকা ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জলমহলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে দাবি করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জলমহলের ইজারাগ্রহীতা মো. ফরহাদ অভিযোগ করেন, ইজারা পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন তাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে জলমহল থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান ফরহাদ।

তিনি বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সরকারি নিয়ম মেনে জলমহলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সংঘাত চান না জানিয়ে বৈধভাবে ইজারা পাওয়া জলমহলে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ আহরণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর শেখও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, জলমহলে পাহারার দায়িত্বে থাকা লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তাদের একটি নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জলমহল নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া এক জেলেও অভিযোগ করেন, তাকে জলমহলে জাল ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার আমিনুল ইসলাম রতনের

তবে মানববন্ধনকারীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা দাবি, লোকজন দিয়ে ইজারাদারদের মারধর এবং নৌকা নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগকারীরা মিথ্যা অভিযোগ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান রতন।

জলমহল নিয়ে মানববন্ধনকারীদের সংগঠন ও কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রতনের দাবি, জলমহল-সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনি তার অবস্থান নিয়েছেন। তবে কোনো আইন বা আদালতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, জলমহল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং বৈধ ইজারাদারদের স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর