কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিমকে ওএসডি করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ঢাকায় শাস্তিমূলক দপ্তরবিহীন কর্মকর্তা দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীন টিটিসিগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের বদলি ও সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আবু সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিমকে তার মূল কর্মস্থল ঠাকুরগাঁও টিটিসিতে বহাল রেখে ঢাকার টিটিসি ভবনে ক্লোজড করা হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে কুমিল্লা টিটিসির উপাধ্যক্ষ এস. এম. মেহেদী হাসানকে কুড়িগ্রাম টিটিসির উপাধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কুড়িগ্রাম টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
৭ জুন ২০২৬ তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, ক্লোজডকৃত কুড়িগ্রাম টিটিসির অধ্যক্ষ সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিমকে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সরকারি অফিসের বাজেট খরচ করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া এবং অফিসের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকে আয়ন-ব্যয়ন পদের ওপর।
মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, অনুসন্ধানে কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মো. রেজাউল করিম খন্দকার একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
ওই আদেশে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে নির্দিষ্ট কমিশন না দিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বা ঠিকাদারি করতে পারেনি কেউ। তার কর্মকাণ্ডে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অতিষ্ঠ।
সম্প্রতি জনৈক ঠিকাদার ও এসেট প্রকল্পের জোরপূর্বক অব্যাহতিপ্রাপ্ত অতিথি শিক্ষক মো. মোতাইব হোসেনের অভিযোগে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে আসে দুর্নীতির চিত্র।
তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের প্রেক্ষিতেই তাকে গতকাল ৭ জুন বদলি করা হলো বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিম খন্দকারকে ফোন দিলেন তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে কথা হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দপ্তর ও সংস্থার প্রশাসন) আহমাদুল হক বলেন, “কুড়িগ্রাম টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিমকে বদলি করা হয়নি। তাকে মুলত ক্লোজড করে ওএসডি করা হয়েছে।
“তার কোন টেবিল নেই। অনিয়ম-দুর্নীতিতে অভিযুক্তের বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় দেশে ফিরলে দ্রুত একটি তদন্ত টিম গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

