তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা রাজারহাটের মানুষ, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকায় পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের। হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও কবরস্থান।

শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজাসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভাঙনকবলিত রতি মৌজার বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল (৬৫) বলেন, “আমার অনেক জমিজমা ছিল। ২১ বছর আগে নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন শুধু বাড়ির ভিটেটুকু আছে। এটাও যদি ভেঙে যায়, তাহলে যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

তার স্ত্রী মোছা. উম্মে কুলসুম বেগম বলেন, “নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি। এখন এই বাড়িটাও নদীতে চলে গেলে আমরা কোথায় থাকব, জানি না।”

স্থানীয়রা জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি ওঠানামা করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর সরানোরও সময় পাচ্ছে না।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মূল ভূখণ্ডে চলে এলেও সেখানে থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছেন না।

একই ইউনিয়নের আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “নদী রক্ষায় অল্প কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোও নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। মসজিদ ও বিদ্যালয় এখন ভাঙনের মুখে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছরই তাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিলা তাসনিম বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। যারা ভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং যাদের নিজস্ব জমি নেই, তাদের আবেদন নিয়ে খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে তিস্তা নদীতে দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে প্রতি বছরের ভাঙন থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here