ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা এবং বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তিনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘সাজিদ কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘হাদি কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘মুসাব্বির কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস—উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, “এই ক্যাম্পাসেই শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বিচার হয়নি। একইভাবে শহীদ ওসমান হাদি ও শহীদ মুসাব্বির হত্যার বিচারও হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। জুলাই আন্দোলনের ঐক্য নষ্ট করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সমাবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, “দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। আগে ঘটে যাওয়া হত্যাগুলোর বিচার হলে পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। সাজিদ হত্যার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী করেছে, তা শিক্ষার্থীদের কাছে পরিষ্কার করা উচিত। বিচার দাবিতে আন্দোলন করলেই প্রশাসন বিরক্ত হয়—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল পুকুর থেকে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ঢাকার ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির; পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

