ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় বন্ধকী দেওয়া জমির ফসলের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনের পা ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর তিতপাড়া (খালুয়াপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন আসাদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রহমত আলী ও লিখন। আহত লিখন বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রবাসী আসাদুল ইসলামের বাবা মো. ময়েন উদ্দিন জানান, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর ৬০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রহমান ও মনজিনা বেগম পৃথকভাবে ১২ বিঘা জমি তিন বছরের জন্য বন্ধক রেখে তার ছেলে আসাদুল ইসলামের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে আসাদুল দেশে ফিরে ওই জমির মধ্যে ২ বিঘা কিনে নেন। অবশিষ্ট ১০ বিঘা জমির আমন ধানের ফসলের চুক্তি অনুযায়ী পাওনা টাকা চাইতে ২৭ জুন সকালে আসাদুল, নুরুল ইসলাম, রহমত আলী ও লিখন প্রতিপক্ষের বাড়িতে যান।
তার অভিযোগ, সেখানে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কিল-ঘুষির পাশাপাশি মাথা ও চোখে আঘাত করা হয়। লিখনের পায়ে রড দিয়ে আঘাত করলে হাঁটুর নিচে হাড় ভেঙে যায়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর প্রবাসীর বাবা মো. ময়েন উদ্দিন বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুমন ইসলাম (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে প্রতিপক্ষ নিজেদের বাড়িতে ভাঙচুর করে সেই দায় প্রবাসী পরিবারের ওপর চাপিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ময়েন উদ্দিন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনার ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আলিনুর ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছি না,”—এ কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “এ ঘটনায় সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

