ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে কিছু শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের মতে, এর ফলে কিছু পরিবার আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয়রা জানান, বাজার, চায়ের দোকান, আড্ডাস্থল এবং ব্যক্তিগত বাসা থেকেও স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, শুরুতে লাভের আশায় যুক্ত হলেও পরে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ডিমলা বাজারের এক ব্যবসায়ী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “অনলাইন জুয়া আমাকে প্রায় নিঃস্ব করে দিয়েছিল। পরিবারের সহযোগিতায় সেই আসক্তি থেকে ফিরে এসেছি। যারা এখনও এই পথে আছেন, তাদের এখনই ফিরে আসার আহ্বান জানাই।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং হাট-বাজারসহ জনসমাগমস্থলে প্রচারণা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক অভিভাবক বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং, হাট-বাজারে প্রচারণা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।”
সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ জুয়ার প্ল্যাটফর্ম শনাক্তকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

