ডাঃ শাহাদাতের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

 

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও খাল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে খাল খনন, ডাইভারশন, রেগুলেটর ও সড়ক উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ নূরুল করিম, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী মহেশ রেগুলেটর ও মহেশখাল কুমার রেগুলেটর এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে বারেক বিল্ডিং মোড়, কোতোয়ালী মোড়, মেরিন ড্রাইভ, মরিয়ম বিবি, কলাবাগিচা, টেকপাড়া, চাক্তাই ও রাজাখালী খাল এলাকার চলমান কাজ পরিদর্শন করেন।

এছাড়া শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড়, চাক্তাই ডাইভারশন খাল, চন্দনপুরা, চকবাজার ফুলতলা ব্রিজ, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নগর সরকার ব্যবস্থা এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও বর্তমান বাস্তবতায় মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামবাসী স্থায়ী স্বস্তি পাবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রতিমন্ত্রী আজ পরিদর্শন শেষে সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এইসব কথা বলেন ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় বৃদ্ধির বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। কোথায় কী কারণে ব্যয় বেড়েছে কিংবা জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মীর শাহে আলম আরো বলেন, চলমান খাল সংস্কার কাজের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় ভোগান্তি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্প নগরবাসীর উপকারে আসবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি পয়েন্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রকল্পের মেয়াদ কিছুটা বাড়তে পারে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, জামালখানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আবারও চট্টগ্রাম সফর করে খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি।

খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসব খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে সচল রাখা এবং খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা না পড়ে, সেজন্য নেটিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খাল হস্তান্তরের পর এক বছর সেনাবাহিনী ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও তিনি জানান।

এসময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীরা মাঠপর্যায়ে থেকে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here