টানা বৃষ্টি ও বন্যায় কুড়িগ্রামে ৫০০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, ২ হাজার ৭৫২ কৃষকের লোকসান

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে জেলার ২ হাজার ৭৫২ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

কৃষি বিভাগ জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পটল, জালি কুমড়া, লাউ, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, বেগুন, মরিচ, করলা ও শসার আবাদ। অনেক ক্ষেতেই সবজির খেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

চলতি খরিপ মৌসুমে জেলায় ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৭৪৪ দশমিক ৭২ মেট্রিক টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। কিছু কৃষক আংশিক ফসল বিক্রি করতে পারলেও অধিকাংশ সবজি চাষি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ৯ শতাংশ জমিতে পটল চাষ করেছিলেন। বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ধারদেনা করে আবাদ করায় এখন তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

একই এলাকার কৃষক শামছুল আলম জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে পটল চাষ করেছিলেন। অর্ধেক বিক্রি করতে পারলেও বাকি ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে দামও কম থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠেনি।

কৃষক রোস্তম আলী বলেন, লাউ, পটল, ঝিঙা ও মরিচের আবাদ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও নতুন করে সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে আবারও চাষাবাদ শুরু করা সহজ হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকার থেকে কোনো সহায়তা এলে তা দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here