টানা বর্ষণে বাগেরহাটে ৭ হাজারের বেশি মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা চাষিরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বাগেরহাটে সাত হাজারের বেশি মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো মৎস্যচাষি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘেরের পাড় ভেঙে মাছ ভেসে যাওয়ায় কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার অন্তত সাত হাজার মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল, নদী ও মাঠ একাকার হয়ে যাওয়ায় ঘেরের মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে চলে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করলেও এ দুর্যোগে তারা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। ফকিরহাট উপজেলার মৎস্যচাষি কাজী মিরাজুল ইসলাম জানান, হাঁটুসমান পানির মধ্যে নেট ও কচুরিপানা দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। মোল্লাহাট ও চিতলমারীর অনেক চাষিও একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। অনেকেই এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এদিকে, ঘের তলিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা খেওলা জাল দিয়ে ভেসে আসা মাছ ধরতে নেমেছেন। ফলে চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের জলাশয়ে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মৎস্যচাষিরা। তারা ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ, এনজিওর কিস্তি আদায় সাময়িক স্থগিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি কমাতে ঘেরের পাড় উঁচু করা এবং গভীরতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মৎস্যচাষিদের আশঙ্কা, দ্রুত পুনর্বাসন ও সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা না হলে আগামী মৌসুমে মাছ চাষে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে, যা জেলার পাশাপাশি দেশের মৎস্য অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here