টঙ্গীতে ছিনতাই প্রতিরোধে থানাঘেরাও: এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

0
132
টঙ্গী পূর্ব থানায় জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ / ছবি - এই বাংলা

গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের টঙ্গীতে চলমান ছিনতাই–নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে পূর্ব থানার প্রধান ফটক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। টঙ্গীর বিভিন্ন মহল্লা ও বাজার এলাকার কয়েক শ মানুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদে অংশ নেন। পরে তারা থানার গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ছিনতাই প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা জানান, বিআরটি প্রকল্পের টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে গাজীপুরা বাসস্টেশন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তাঁরা বলেন, “গত শনিবার সকালে টঙ্গীর বাটাগেট অংশের উড়ালসেতুতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। প্রতিদিনই কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কে চলছে। পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না—তাই আজ আমরা থানা ঘেরাও করেছি।”

এলাকাবাসী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সঠিক ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

গত শনিবার সকালে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সিদ্দিকুর রহমান নামে এক সরকারি কর্মকর্তা। ঘটনার পর রোববার বিকেলে টঙ্গীর হাজি মাজার বস্তি এলাকা থেকে র‌্যাব-১ সদস্যরা ইমরান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে টঙ্গী পূর্ব থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান জানান, র‌্যাব আটক ইমরানকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে কয়েক শ এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা ফিরে যান।”

ঘটনার পর টঙ্গী এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলা তো বটেই, দিনের বেলাতেও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে জানিয়েছে তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here