ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম: নতুন ভবনের অপেক্ষায় জলঢাকার পশ্চিম কাঁঠালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

0
148
জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম কাঁঠালি সার্বজনীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় / ছবি - এই বাংলা

স্টাফ রিপোর্টার :

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম কাঁঠালি সার্বজনীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে একটি অস্থায়ী টিনসেড কক্ষে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের ১৯৯২-৯৩ সালে নির্মিত পাকা ভবনটি এখন সম্পূর্ণ অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই চলছে প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ অফিসের কাজ। প্রতিদিন ভয়-আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে শিশুরা অস্থায়ী টিনসেড ভবনে পড়ালেখা করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দক্ষদা মোহন রায় জানান, “অসহায় পরিবারের শিশুরা প্রতিদিন স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে আসে। তাদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ ভবন খুবই প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও এখনও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের জমিটি দান করেছিলেন তার বড় ভাই আদিত্য কৃষ্ণ রায়।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ জন সহকারী শিক্ষক ও প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটির ছাদের পলেস্তার খসে পড়া ও দেওয়ালের ফাটল যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।

প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আদিত্য কৃষ্ণ রায় বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে এখন টিনসেডে ক্লাস চলছে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পড়ালেখা করতে পারবে।”

জলঢাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরামানা জাহান সিদ্দীকা জানান, বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, এই বিদ্যালয়ই তাদের একমাত্র ভরসা। দূরের স্কুলে ছোট শিশুদের পাঠানো কষ্টকর। তাই দ্রুত নতুন ভবনের দাবি তাদের বহুদিনের।

স্থানীয় কৃষক নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, “শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করে। নতুন ভবন পেলে তারা নিরাপদ থাকবে, আমরাও নিশ্চিন্ত হবো।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, “২০ ডিসেম্বর পুরোনো ভবনটি নিলাম করে নতুন ভবনের জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু হবে।”

দীর্ঘদিন অবহেলিত বিদ্যালয়টি এখন নিরাপদ ভবনের প্রত্যাশায়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর আশা—দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ভবন নির্মাণ হলে গ্রামের শিশুরা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা লাভ করতে পারবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here