ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের এমএসআর সামগ্রী ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, দরপত্রে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদসহ চারজনের নামে মামলা করেছে দুদক। বর্তমানে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে কর্মরত ডা. শামীমকে আসামি করে গত বুধবার দুদক পিরোজপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ও দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে বরিশালের ঠিকাদার শিপ্রা রানী পিপলাই, তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই ও স্বামী সত্য কৃষ্ণ পিপলাইকে। মামলা নং ১৫ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের এমএসআর সামগ্রী কেনার জন্য ৫ কোটি টাকার এপিপি অনুমোদন করা হয়েছিল। এরপর গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও রান্নাঘরের সামগ্রী কেনার জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ।
দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি—মেসার্স আহসান ব্রাদার্স, পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালকে উপযুক্ত বিবেচনা করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তদন্তে দেখা যায়, তিনটি প্রতিষ্ঠানই একই পরিবারের সদস্যদের নামে হলেও পরিচালনা করতেন একমাত্র সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই। তার বাবা সত্য কৃষ্ণ পিপলাইকে রাখা হয় আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসাবে, মা শিপ্রা রানী পিপলাইকে দেখানো হয় বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর, আর পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ছিল সোহাগের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। তাদের সবার ঠিকানা বরিশালের কাটপট্রি সড়কে একই জায়গায়।
দুদক কর্মকর্তা পার্থ চন্দ্র পাল জানান, সচেতনভাবে প্রতিযোগিতা সাজানো, দরপত্র আইটেমগুলো কাছাকাছি মূল্যে প্রদর্শন ও যোগসাজশের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পিপিআর বিধিমালা ২০০৮-এর ১২৭(৩)(খ) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। মামলার নথি ঢাকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ডা. শামীম আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সাজানো। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’
এই বাংলা/এমএস
টপিক
- অনিয়ম-দুর্নীতি
- দুদকের মামলা
- দরপত্র

