জরাজীর্ণ ঘরে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন, সহায়তার আকুতি বাঘাইছড়ির মিনু আক্তারের

বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

একটি নিরাপদ ঘর, সন্তানদের মুখে তিনবেলা খাবার এবং লেখাপড়ার নিশ্চয়তা-এটাই ছিল স্বামী পরিত্যক্তা মিনু আক্তারের জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করতে করতে সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মিনু আক্তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিত্যক্ত টিন, বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরেই তাদের বসবাস। ঘরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাঁক রয়েছে, ছাউনির টিনও মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে যায়। অনেক সময় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হয় ছাতা মাথায়, আবার কখনো আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের বাড়িতে।

ঘরের ভেতরে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। একটি পুরোনো খাট, কিছু ভাঙাচোরা হাঁড়ি-পাতিল ও ব্যবহৃত কাপড়ই তাদের সম্বল। বৃষ্টির দিনে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অনাহারেও দিন কাটাতে হয় বলে জানান মিনু আক্তার।

তিনি বলেন, “স্বামী অনেক বছর আগে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তারপর থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে একাই সংগ্রাম করছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করি। কেউ সাহায্য করলে খেতে পারি, না হলে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়। আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল সন্তানদের মানুষ করা। কিন্তু অভাবের কারণে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে গেছে।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মিনু আক্তার জানান, তার বড় মেয়ে লিজা আক্তার অনেক কষ্টে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারেননি। মেজো মেয়ে ও ছোট ছেলেও বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তবে বই-খাতা, পোশাক ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ জোগাড় করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন মিনু আক্তার। স্থানীয়রা সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে মাঝে চাল, ডাল, কাপড় বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। তবে এসব সহায়তা সাময়িক, স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, পরিবারটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ বসতঘর ও স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা। পাশাপাশি বড় মেয়ে লিজা আক্তারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পরিবারটির জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা পেলে মিনু আক্তারের পরিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সহযোগিতার হাত বাড়ালে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একটি অসহায় পরিবারের জীবন নতুন আশার আলো দেখতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here