রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে ব্লু আমব্রেলা ডে ২০২৬ উপলক্ষে “নীরবতা ভাঙুন, ছেলে শিশুদের সুরক্ষা দিন এবং পরিবারকে শক্তিশালী করুন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক গণমাধ্যম সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) নগরীর হোটেল ওয়ারিশানে অনুষ্ঠিতর ফ্যামিলি ফর এভরি চাইল্ড এর সহযোগিতায় এসিডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট) এই সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে ছেলে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ, পরিবার ও কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, ছেলে শিশুরাও যৌন সহিংসতার শিকার হয়, কিন্তু সামাজিক কলঙ্ক, নীরবতা এবং প্রচলিত ক্ষতিকর জেন্ডার ধারণার কারণে তারা অনেক সময় সহায়তা চাইতে পারে না। ফলে বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহম্মেদ, বাসসের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ড. আইনাল হক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান কাজী শাহেদ, সিনিয়র সাংবাদিক মামুন-অর-রশীদ।
প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল এর সঞ্চালনায় এসময় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মো. আনিসুজ্জামান, দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক এনায়েত করিম, দৈনিক নতুন প্রভাত সম্পাদক সোহেল মাহবুব, একাত্তর টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো ইনচার্জ রাশিদুল হক রুশো, প্রথম আলোর প্রতিবেদক শফিকুল ইসলাম, চ্যানেল ২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আবরার শাঈর, দৈনিক করতোয়া প্রতিনিধি মাইনুল হাসান জনি, সময় টিভি সিনিয়র রিপোর্টার মওদুদ রানা, যমুনা টিভির তারেক মাহমদু, ঢাকা টিব্রিউন রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি দুলাল আব্দুল্লাহ, দৈনিক সানশাইন এর সরকার দুলাল মাহবুব, গ্লোবাল টিভির আব্দুল বাতেন, রাজশাহী সংবাদের আব্দুল আলীম প্রমুখ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বক্তারা বলেন, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জেন্ডার-সংবেদনশীল করতে হবে এবং নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে শিশু সুরক্ষা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা উল্লেখ করেন, ছেলে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচকরা আরও বলেন, গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতিবাচক সামাজিক ধারণা পরিবর্তন এবং সারভাইভার-সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শিশুদের পরিচয় গোপন রাখা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সংলাপে শিশু সুরক্ষায় সরকার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শেষে শিশুদের জন্য নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

